বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের শিল্পীসমাজের একাংশ আবারও স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়িয়ে মায়াকান্না করছে। তিনি বলেন,
“শিল্পীসমাজ থাকবে সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। কিন্তু আজ দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের শিল্পীসমাজের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাসাস আয়োজিত ‘কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পীদের একাংশকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন,
“৫ আগস্ট যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, সেখানে ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, নারী, পুরুষ, শিশু সবাই রাস্তায় নেমেছিল। শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। সেই দায় আপনাদের স্বৈরসরকারের। গণ-অভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তারা। কিন্তু আপনারা এখনো ষড়যন্ত্র করছেন।”
তিনি শিল্পীদের সতর্ক করে বলেন,
“আপনারা শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনুন। কারণ আজ ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ সবাই সচেতন। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বাংলাদেশকে শোষণ করেছেন, জনগণকে প্রতারিত করেছেন। প্রতিবাদী শিল্পীরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন—এটাই জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের দাবি।”
সেলিমা রহমান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে বলেন,
“প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। আরেক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছিলেন। মিথ্যা মামলায় তাকে বছরের পর বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে হয়েছে, তবুও তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি। তার একটাই কথা ছিল—দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও।”
মানববন্ধনে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ইথুন বাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“২১ দিনের মধ্যে শিল্পকলা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত সব জায়গা ফ্যাসিস্টমুক্ত না হলে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসরিন সুলতানা, অভিনেতা শিবা শানুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।