এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও গণআলোচনার দিকটি তুলে ধরে বলেন, “এই দেশে ২৫০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট হয়েছে, অথচ তা নিয়ে কোনো টকশো হয় না।
কিন্তু কে কোথায় হাঁসের মাংস খেল, তা নিয়েই সপ্তাহের পর সপ্তাহ এজেন্ডা তৈরি হয়।” তার অভিযোগ—গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আড়াল করতে মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র পাঁচ লাখ টাকার চোরকে দেশের সবচেয়ে বড় অলিগার্ক বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। অথচ প্রকৃত লুটেরাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। ফুয়াদের মতে, এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক প্রচারণা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং গণআলোচনার মূল ইস্যুগুলো চাপা পড়ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, “যারা নির্বাচন চাইছেন, তাদেরকে জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন চাইতে হবে, গণঅভ্যুত্থানের অধীনে নির্বাচন চাইতে হবে। অন্যথায় ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।” তিনি দাবি করেন, জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানকে পাশ কাটিয়ে প্রচলিত ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শপথ প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, “আমি চুপ্পুর কাছে গিয়ে আর শপথ নিতে চাই না। এটা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। ২৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে, তারা চুপ্পুর অধীনে শপথ নেওয়ার জন্য প্রাণ দেয়নি।”
তিনি কমিশন সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করেন, আসন্ন সংসদের জন্য একটি নতুন শপথনামা তৈরি করতে হবে, যাতে এমপিরা শুধু জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচিত হবেন না, বরং সেই সনদের অধীনে শপথও গ্রহণ করবেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, এবি পার্টি প্রচলিত সংবিধানভিত্তিক ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করে জুলাই সনদকে নতুন রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান আগামী নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দেবে।