বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি বর্তমান পিআর পদ্ধতির আলোচনা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,
“হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসল পিআর পদ্ধতি। তারা যে সময়ক্ষেপণের জন্য চেষ্টা করছে এটা বলাই বাহুল্য। পিআর পদ্ধতিটা ছিল না, যখন সংস্কার শুরু হয় তখনো এর মধ্যে ছিল না। হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসল পিআর পদ্ধতি। কারণ তারা মনে করছে একটা স্কোপ পাওয়া গেছে যে বিএনপিসহ অনেক দল এটা মেনে নেবে না এবং এটা নিয়ে আমাদের যুদ্ধের একটা আইটেম হলে মন্দ হয় না।”
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টক শোতে নিলুফার চৌধুরী এ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই ৫৪ বছরই। শেষের ১৫ বছর নিয়ে তো বলার কোনো অবস্থাই নেই। এখানে গণতন্ত্র তো দূরের কথা স্বৈরতন্ত্র ফেল মেরেছে। ফ্যাসিস্টের পদচারণায় মুখরিত ছিল। সেই জায়গায় তার আগে এক এগারোর একটা ধকল, তার আগে এরশাদের নয় বছরের ধকল— ধকলের শেষ নেই বাংলাদেশে। এই জায়গাটায় যদি আমরা মনে করি যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করলাম, একই বৃত্তে অবস্থান করলাম, একই পাত্রে থেকে ওই সরকারকে সরালাম— তাহলে সমাধানের আগে যদি নিজেরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ি তাহলে সেই সমাধান কখনোই হবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনারা নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের চর্চার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। যদিও আপনাদের নিজেদের ওইখানে গণতন্ত্র কম, নির্দেশই বেশি কাজ করে, তার পরেও বলব বাংলাদেশের সিস্টেমটাই গণতান্ত্রিক। আপনাকে এই জায়গাটায় আসতেই হবে। আপনি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন না। সেনাপ্রধান যে কথাটা বলেছিলেন আমিও সেটাই বলতে চাই, আপনারা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ না করেন তাহলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হতে পারে।”
নিলুফার চৌধুরী মনে করেন, এতদিনে যতগুলো সংস্কার হয়েছে তার অধিকাংশই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন,
“৬০০’র ওপরে সংস্কার মানা হয়েছে, মাত্র কিছু সংখ্যক সংস্কারে সমস্যা আছে, ওইটাও মিটে যাবে। গণতন্ত্রের এখানে চরম ধাপ অতিবাহিত করেছে। এতগুলো মানার পরে তারা যদি বলে পিআর পদ্ধতি, গণভোটের পদ্ধতি— এগুলো চরমভাবে বাড়াবাড়ি। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে, নিজের জীবন বিপন্ন করে কিন্তু বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না।”