দেশে ‘একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে’ বলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছে, একটি ভূখণ্ড দিয়েছে, একটি স্বাধীন সত্ত্বা দিয়েছে। এজন্য শহীদদের স্মরণ করতে হবে এবং তাদের রক্তের ঋণ ভুলে গেলে চলবে না।” তিনি আরও বলেন, “আজকে একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা চলছে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। “যদি উগ্রবাদ বিস্তার লাভ করে, তবে বাংলাদেশের আত্মা, অস্তিত্ব রক্ষা পাবে না,”—বলেন ফখরুল।
তিনি বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। “বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, দেশকে উন্নত করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ও উলুধ্বনি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং দেশের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর প্রমাণ ব্যাংককের বাড়ি ভাড়া ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনার ঘটনায় পাওয়া যায়।
বিএনপি মহাসচিব জানান, অসাম্প্রদায়িক একটি ‘রেইনবো রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি ও তারেক রহমানের লক্ষ্য। তিনি সবাইকে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।