বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান বলেছেন, শেখ হাসিনা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম নারী স্বৈরাচার। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসে ফেরাউন, নমরুদ কিংবা স্ট্যালিনের মতো স্বৈরশাসকের নাম শোনা গেলেও এমন কোনো নারী স্বৈরাচারের নজির পাওয়া যায়নি।
রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত “জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ শিশির মনির।
ডা. জেহাদ খান বলেন, জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ উৎখাত করা অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশে জনগণের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন বিশ্ববাসীর সামনে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, এই অর্জন ধরে রাখতে হলে জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে, নইলে শহিদদের ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে এবং আবারও স্বৈরাচার ফিরে আসবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, গত ৫৪ বছরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই ফ্যাসিবাদীরা ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের আন্দোলনে তারা হটলেও আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের শতকরা ৭১ ভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চায়। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে জুলাই ঘোষণা ও সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “যারা তড়িঘড়ি করে নির্বাচন চায় তারা মূলত ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন মানে হলো আবার স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করা।”
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একযোগে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়ে সংবিধান সংস্কার করা অপরিহার্য।