বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন—
“শত বছর চেষ্টা করলেও জামায়াতে ইসলামী কোনোদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি)। এখানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। বক্তব্যে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনের হুমকি, এবং ঐতিহাসিক বিচারকে ঘিরে তাদের মনোভাবের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানান।
তিনি বলেন,
“৭১ এর গণহত্যাকারীদের বিচার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মন খারাপ। তারা এখন বলছে, বিচার ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না। আমি বলছি—তোমরা কে? তোমরা কে নির্বাচন ঠেকাবে? বাংলার জনগণ যদি রাস্তায় নামে, তোমাদের আবার পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেবে।”
চরমোনাইসহ যে দল নিয়েই জামায়াত মাঠে নামুক না কেন, সে স্বপ্ন যে চূর্ণবিচূর্ণ হবে তা পরিষ্কার করে বলেন হাবিব। তিনি বলেন,
“এই দেশ স্বাধীন হয়েছে রক্ত দিয়ে, সেই স্বাধীনতা নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে বাংলার মাটি কেউ ছাড় দেবে না।”
বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাবিব বলেন,
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পাকিস্তানি রাজাকার যেন স্থান না পায়—সেই লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। একাত্তরের চেতনা আর জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তে শুদ্ধ হয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।”
একই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন,
“এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিনিয়োগ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর সুযোগে আবারও আওয়ামী লীগ গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়াতে চাচ্ছে।”
তিনি নির্বাচনের জন্য আর কোনো বিলম্ব না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“নির্বাচন কমিশনকে এখনই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”
এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র একটি যুগান্তকারী দলিল, যা গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের সামনে নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও তা কার্যকর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি।