জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে ‘ব্যক্তিগত সফরে’ কক্সবাজার যাওয়ায় শোকজের মুখে পড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলছেন, তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জানিয়েই ভ্রমণে গিয়েছিলেন। শোকজের ভাষা ও উদ্দেশ্য নিয়ে দলীয় ভিতরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে হাসনাত বলেন, “৪ আগস্ট রাতে আমি প্রথমে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তাকে না পেয়ে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে বিষয়টি জানাই এবং অনুরোধ করি তিনি যেন আহ্বায়ককে জানান। কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে নিশ্চিত করেন যে আহ্বায়ককে জানানো হয়েছে এবং তিনি সম্মতি দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমি, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম ও তার সহধর্মিণী, তাসনিম জারা, খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি মিলে কক্সবাজার যাই। এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত সফর, এবং একই সঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্রে শহীদ ও আহতদের উপেক্ষার বিরুদ্ধে আমার নীরব প্রতিবাদ।”
শোকজের ভাষা ও উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে হাসনাত বলেন, “পার্টির কোনো গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করিনি। শোকজে কোনো নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ নেই। এটি একটি বিধিবহির্ভূত পদক্ষেপ এবং অতি উৎসাহী হয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ করা রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবের পরিচয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং কিছু মিডিয়া মিলে আমাদের সফরকে টার্গেট করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়েছে। এমনকি পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকের গুজব ছড়ানো হয়েছে, অথচ তিনি তখন বাংলাদেশেই ছিলেন না।”
সবচেয়ে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারাকে ঘিরে ‘স্লাটশেমিং’-এর অপচেষ্টা। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র একজন নারী হওয়ার কারণে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নারীদের রাজনীতি থেকে নিরুৎসাহিত করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”
হাসনাত মনে করেন, “এই পরিস্থিতিতে পার্টির উচিত ছিল গোয়েন্দা সংস্থা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তার পরিবর্তে নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হতাশাজনক।”
সবশেষে তিনি বলেন, “আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে গণতান্ত্রিক চর্চা, সম্মান ও সত্যভিত্তিক রাজনীতি চায় বলেই এই ব্যাখ্যা দিচ্ছি। আমাদের পার্টির আরও পরিণত রাজনৈতিক মানসিকতা প্রয়োজন।”