বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেছেন, “আমরা জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছি। কারণ আমরা মনে করি, এই ঘোষণা ভবিষ্যতের নির্বাচন, গণতন্ত্র, সংসদ ও রাজনীতির পথ খুলে দিয়েছে।” কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল—যারা আজও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মেনে নিতে পারেনি—তারা একাত্তরকে সমর্থন দেওয়ার কারণেই জুলাই ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে অনুষ্ঠিত এক বিশাল বিজয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আযম খান এই অভিযোগ তোলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
তিনি বলেন,
“গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার—এগুলোই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান। যারা একাত্তরকে অস্বীকার করে, তারা কখনোই এই মূল্যবোধে বিশ্বাস করে না। তারা ভোট চায় না, চায় ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যেতে। তারা আজ ‘পিআর’ নামে এক বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছে।”
আযম খান পিআর সিস্টেমের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন,
“পিআর মানে আপনি ভোট দেবেন বকুলকে, আর এমপি হবে কক্সবাজারের কেউ! আপনার এমপিকে আপনি চেনেন না। এটা কোনো গণতন্ত্র নয়। পিআরের নামে ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা আমরা মানি না।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা বলে পিআর ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না, তারা তো একাত্তরের সময় অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। আজ আবারও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে নেমেছে। বিএনপি এদেশ স্বাধীন করেছে—আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চাই, ষড়যন্ত্রে নয়। আপনারা চাইলে বিচার, সংস্কার, পিআর—এই তিনটি কোনোটা পাঁচ বছরে, কোনোটা দশ বছরে শেষ হবে না। তাহলে কি ততদিন নির্বাচন বন্ধ থাকবে?”
বিএনপির এ সিনিয়র নেতা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“নির্বাচনের বিরোধিতা মানে সর খাওয়া বন্ধ হওয়ার ভয়। আপনারা জানেন, নির্বাচন এলেই লুটপাট থেমে যাবে, এজন্যই নির্বাচন চান না। জনগণের কাছে যান, গণতান্ত্রিক মঞ্চে আসুন, ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। না হলে একাত্তরের মতোই আবার জবাব পেয়ে যাবেন।”
সমাবেশে আওয়ামী লীগ, বামপন্থি ও তথাকথিত সংস্কারপন্থিদেরও একহাত নেন তিনি। বলেন,
“সংস্কার শব্দটা তো বিএনপি শিখিয়েছে। খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ১৭ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছেন। তারেক রহমান দিয়েছেন ২২ দফা, তারপর ৩১ দফা। অথচ আজ যারা সংস্কার সংস্কার করে মুখে ফেনা তুলছে, তারা নিজেদেরই সংস্কারের ইতিহাস জানে না।”
তিনি বলেন,
“ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন, জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। কারণ দিনের ভোট রাতে হবে না, আগের মতো সিল মারা ভোট হবে না, আইডি-ডামি নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে জনগণের ভোটে।”
আযম খান বিজয়ের দাবিতে রক্তদানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
“এই অভ্যুত্থানে ৮৫০-এর বেশি বিএনপির নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তাদের নাম তালিকায় আছে। আপনারা কী করেছেন? আন্দোলনের ভয় পেয়ে কেউ আওয়ামী লীগে, কেউ বাম দলে গিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন। বিএনপি রাজপথ ছেড়ে পালায়নি, লাশ দিয়েছে, গুম-খুন-জেল সহ্য করেছে, কিন্তু আপস করেনি।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোমরেজুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিজয় মিছিল কেডিএ মোড় হয়ে রয়েল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।