প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া জুলাই ঘোষণাপত্র এবং আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
বুধবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই ঘোষণা কোনও জাতীয় সংলাপ বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়নি, বরং একটি নির্দিষ্ট দলের চাপে সরকারের আত্মসমর্পণের ফল।”
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার পাঠ করা ঘোষণাপত্র, ঘোষণার আয়োজন, এবং একটি মাত্র দলের সঙ্গে আলাপ করেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ—সবকিছুই প্রমাণ করে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আত্মত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এটি গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি চরম অবহেলা।”
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছেন—আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অবদান সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কোনোভাবেই স্বীকৃতি পায়নি।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “যারা দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের কাউকেই ঘোষণার মঞ্চে স্থান দেওয়া হয়নি, কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি। এটি রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রকাশ।”
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আইনি অধ্যাদেশ জারি করে ‘জুলাই সনদ’কে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন করতে হবে।”
তিনি সতর্ক করেন, অন্যথায় এই ঘোষণাপত্র, নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গোটা উদ্যোগ জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।