“বিচার ও সংস্কার ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচন চাই না, এবং হতে দেবো না”—এভাবেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Rebuilding The Nation: Bangladesh 2.0’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ধিক্কার জানাই, কারণ আমরা আহতদের জন্য কিছু করতে পারিনি। আমরা দোসরদের থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারিনি। আমরা সংসদ ও ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকি, অথচ যারা রক্ত দিয়েছে, তারা এসব প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর শুধু নির্বাচন ঘিরে চাপ তৈরি করা হলেও বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। “নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিচার ও সংস্কারের চেয়ে বড় নয়”—বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউটর বাড়াতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না।”
একই মঞ্চে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সুষ্ঠু বিচার সম্ভব নয় যদি সাক্ষ্য ও প্রমাণ হাজির না করা হয়। তিনি কার্যকর বিচার নিশ্চিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
চিন্তক সারোয়ার তুষার বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ। বিচার ও সংস্কার শেষ করে তবেই নির্বাচন হওয়া উচিত।” তিনি গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা এক কণ্ঠে বলেন, “বিচারহীন নির্বাচনের যুগ শেষ। এবার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”