বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়ার পর চিকিৎসকরা তাকে বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে এই শনিবার। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সেখানেই তার সার্জারি করার প্রস্তুতি চলছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম।
শীর্ষ নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে প্রবল উদ্বেগ। নেতাকর্মীরা হাসপাতালের আশপাশে অবস্থান করছেন, নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন চিকিৎসকদের কাছ থেকে। দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা দোয়া চেয়ে পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এর আগে বুধবার সকালে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন ডা. শফিকুর রহমান। বিকেল ৪টার দিকে কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে হার্টে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে।
তবে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্লকের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত দেন এবং পরামর্শ দেন বিদেশে গিয়ে এ অপারেশন করানোর জন্য।
কিন্তু এই পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে দেশেই থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জামায়াত আমির। দলীয় নেতারা বলছেন, জনগণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একজন আদর্শিক নেতার পক্ষেই এটি সম্ভব। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও দেশ ছাড়েননি, বরং এখানেই থেকে অপারেশন করাতে সম্মত হয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক দুর্বলতার প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে। সে সময় তিনি দুইবার মঞ্চে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে পানিশূন্যতা ও গরমকে কারণ বলা হলেও, পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে হৃদরোগের জটিলতা।
এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং দ্রুত এনজিওগ্রামের পর চূড়ান্ত হয় বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সেলিম উদ্দিন ফেসবুকে লিখেছেন, “বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, মানবিক জননেতা আমাদের সম্মানিত আমির হাসপাতালে ভর্তি। দেশ-বিদেশের সকল ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান— আসুন, তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।”
এমনই আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও।