আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি বলেন, “দেশে এখন কোনো দৃশ্যমান রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই, আর অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।”
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “গোপালগঞ্জে এনসিপিকে মিটিং করতে দিতে হবে কেন? এটা যেন একটা সাজানো নাটক। কেউ কেউ ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর কবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। আসলে পুরো বিষয়টাই চরমভাবে রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত একটি দাবার ছক।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এনসিপি এখন ‘এনার্কি পার্টি’তে পরিণত হয়েছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া। সরকার তাদের প্রটেকশন দিচ্ছে, সেনাবাহিনীর ট্যাংক দিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে। অথচ দেশের মানুষ আতঙ্কে, এবং একমাত্র সেনাবাহিনী ছাড়া রাষ্ট্রের আর কোনো অর্গানাইজড শক্তি কাজ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দেশের সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করলে আজ এমন বিশৃঙ্খলা হতো না। তিনি শুরুতেই নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”
শামীম হায়দার অভিযোগ করেন, “উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে যোগ্যতা নয়, বরং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র—প্রতিটি দপ্তরে স্থবিরতা ও সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট।”
তিনি বলেন, “যেখানে লক্ষাধিক শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যেত, তা না করে সরকার সময় নষ্ট করছে। আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম—এসব অপরাধের বিচার এখনো হয়নি। এসব অন্যায় যারা করেছে, তারা এখনও রাষ্ট্রযন্ত্রে সক্রিয় রয়েছে।”
জাতীয় পার্টি মনে করে, এই সরকার জনগণের আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না এলে রাষ্ট্র আরও গভীর সংকটে পড়বে।