ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘জ্বীন’ বলে ডাকতেন, কারণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করা হতো। এই তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে।
জবানবন্দিতে মামুন জানান, জুলাই আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহৃত হয় এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ আসে সরাসরি শেখ হাসিনার কাছ থেকে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নির্দেশ তার কাছে পৌঁছে দেন। প্রতিরাতের বৈঠকে এসব পরিকল্পনা হতো, যেখানে উপস্থিত থাকতেন সচিব, এসবি প্রধান মনিরুল, ডিবির হারুন, র্যাবের মহাপরিচালক, আনসারের ডিজি এবং এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মামুন তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, কোর কমিটির এক বৈঠকে ছয় সমন্বয়ককে আটকের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ ছিল র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক হারুন অর রশিদের পরিকল্পনার অংশ।
তিনি বলেন,
“মারণাস্ত্র ব্যবহারে রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল এবং এতে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।”
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি হেলিকপ্টারে তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান মামুন এবং পরে সেনানিবাসে আশ্রয় নেন। জবানবন্দির শেষে তিনি আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হতাহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের শর্তে তার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এই জবানবন্দি দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।