বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরের কথা স্মরণ করিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন,
“শুধু এক সরকার থেকে আরেক সরকার পরিবর্তন করলেই জনগণের জীবন বদলায় না। প্রয়োজন অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার।”
সোমবার (২৮ জুলাই) জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড়ে এনসিপির আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সংসদ চাই, যেখানে থাকবে ক্ষমতার ভারসাম্য। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর কথায় দেশ চলবে না। আমরা সেই নতুন বাংলাদেশের জন্য কথা বলছি, লড়াই করছি।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে আমরা নাকি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছি, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাই। অথচ বাস্তবতা হলো, যদি আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত না করতাম, তাহলে শেখ হাসিনার অধীনে এই দেশের মানুষকে আরো চার বছর অপেক্ষা করতে হতো।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা নির্বাচন চাই, তবে সেই নির্বাচন হতে হবে বিচার ও সংস্কারের ভিত্তিতে। সেই জন্যই আমরা জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র ৫ আগস্টের আগেই জারি করার দাবি জানিয়েছি।”
নাহিদ আরও জানান, দেশে চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় ‘ঐকমত্য কমিশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিও সেখানে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, সেই কমিশনের মাধ্যমে পুরনো দমনমূলক আইনগুলো বাতিল করে, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হোক। যাতে আর কোনো নির্বাচন কমিশন, পুলিশ বা বিচারব্যবস্থা দলীয়করণ না হয়।”
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান এবং সদস্য মসিউর রহমান শুভ।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, “যে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিগত বছরগুলোতে নাগরিকদের গুম ও হত্যার অনুমোদন দিয়েছে, সেই ব্যবস্থাকে বদলাতেই আমরা আন্দোলনে আছি। আমরা আর এমন রাষ্ট্রে ফিরতে চাই না যেখানে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকবে।”
পথসভায় অংশ নেওয়ার আগে নাহিদ ইসলাম স্থানীয় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, হরিজন পল্লি পরিদর্শন করেন এবং একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তমালতলা থেকে শুরু হওয়া “জুলাই পদযাত্রা” শহর ঘুরে ফৌজদারি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
নাহিদ ইসলামের ভাষণে বারবারই উচ্চারিত হয় একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা—যেখানে গণতন্ত্র হবে শুধু ভোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব জীবনের পরিবর্তনের মাধ্যম।