প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন,
“সিলেটের প্রবাসীরা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাদের ভুলব না। লন্ডনে বাঙালিদের অধিকাংশই সিলেটি, আপনারা লন্ডন জয় করেছেন। প্রবাসী ভাইদের ঘামে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে। আমরা চাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হোক এবং তারা বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণের অংশ হোক।”
২৫ জুলাই বিকেলে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এনসিপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। সিলেটের প্রতি ঐতিহাসিক অবিচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় করিমগঞ্জ আসামে দিয়ে সিলেটকে ঠকানো হয়েছিল। পাকিস্তান আমল থেকে আওয়ামী লীগের আমল পর্যন্ত সিলেটকে প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,
“এনসিপি কোনো চাঁদাবাজদের দল নয়। ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে এনসিপি উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ করেই এনসিপি এসেছে। এখনো সংকট শেষ হয়নি। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সিলেট নগরজুড়ে এ সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়, পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। বিকালে চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে এনসিপির পদযাত্রা শুরু হয়, এতে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। পথে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন তারা।
সেখানে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আমরা বছরের পর বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তে শপথ নিয়েছি—আমরা আর গোলামের জীবন যাপন করব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত করতে হবে।”