একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষমা ও স্মৃতির পার্থক্য তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধে আপনারা অপরাধ করেছিলেন, আমরা ক্ষমা করেছি, কিন্তু ভুলে যাইনি।”
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি। শহীদদের স্মরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত এই সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,
“জনগণ যদি একাত্তরের পরাজিত শক্তির কৃতকর্ম ভুলে গিয়ে ভোট দেয়, তাহলে আমরা সালাম দেব। কিন্তু তাদের আস্ফালন আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে মেনে নিতে পারি না।”
বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতার জন্য লালায়িত নয়, জনগণের ভোটাধিকারের জন্যই লড়ছে। জনগণ যদি বিএনপিকে ভোট দেয়, তা মেনে নিতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।”
জিয়াউর রহমানকে দেশের সবচেয়ে বড় সংস্কারক আখ্যা দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, “বিএনপি সংস্কারে বিশ্বাসী, কুসংস্কারে নয়।”
বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি বিশ্বের অনেক দেশে চালু থাকলেও আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি মানানসই নয়। এটি পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি ফাঁদ মাত্র।”
তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্মরণ করিয়ে দেন, “আপনি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন, কেউ বাধা দিলে বিএনপি আপনাদের পাশেই থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিছ রিকাবদার। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মনজুর এলাহীসহ দলীয় নেতারা।