জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে মৌলিক শাসনতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন নয়, প্রয়োজন প্রথমে কাঠামোগত সংস্কার। তা না হলে জনগণের সঙ্গে বেইমানি হবে।”
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুর বলেন, “আল্লাহ মানুষকে ধন, সম্পদ ও ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। আমরা গত ১০ বছর ধরে সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং সফল হয়েছি। আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে উৎখাত করেছি—এটি কোনো ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বরং জনগণের বিজয়।”
তবে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “বিপদ কেটে গেলে মানুষ অনেক সময় অহংকারী হয়ে পড়ে। যারা আজ জালিমের বিরুদ্ধে লড়েছে, তারা যেন কাল নিজেরাই জালিম না হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার মতো সীমালঙ্ঘন করলে আল্লাহ আমাদেরও রেহাই দেবেন না।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রক্তের বিনিময়ে যে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে, তা টেকসই করতে হলে শাসনতন্ত্রের মৌলিক সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়।”
নুরুল হক নুর আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন, নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ—একটি সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড।”
তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিম্নপর্যায় থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
নুরের এই বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।