গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুজিববাদী আদর্শের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, “গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে এনসিপির তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”
এ হামলার ঘটনা নিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, হামলার পেছনে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল এবং এই হামলা সারা দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, এই হামলা “পূর্ব পরিকল্পিত” ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের নেতাদের ভয় দেখানো এবং তাদের দমন করা। “গোপালগঞ্জ এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য,”—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা মামলার আওতায় আছেন, তারা সারা দেশ থেকে এখানে জড়ো হয়ে হামলা চালিয়েছে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “এটা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের চূড়ান্ত প্রকাশ এবং মুজিববাদী সন্ত্রাসীদের জঙ্গি কায়দায় হামলা তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ করেছে।”
নাহিদ ইসলাম অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে, তবে হামলা অন্য কিছু ইঙ্গিত করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাবোট্যাজ করা হয়েছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।”
তিনি আরো দাবি করেন, “এ হামলা এক দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল। স্টেজে হামলা, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, এসবের মাধ্যমে সরকার তাদের অপকর্মের জন্য দায়ী থাকতে চায়।”
এ হামলার পর, সারা দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মতের মানুষ এনসিপির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম এ ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সেখানকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছি। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কথা বলেছি এবং একই সঙ্গে এনসিপির পরিচিতি তুলে ধরছি।”
এনসিপির কর্মসূচি অনুযায়ী, মাদারীপুর ও শরিয়তপুরে তার দল কর্মসূচি পালন করছিল, তবে সেখান থেকে ফেরার পথে হামলা চালানো হয়। “এ হামলায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রূপের প্রকাশ ঘটেছে জনগণের সামনে,”—এ মন্তব্য করে তিনি জানান।
নাহিদ ইসলাম আরো ঘোষণা করেন, “এ হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবে এনসিপি।” তবে আপাতত, মুজিববাদী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে তাদের মাদারীপুর ও শরিয়তপুরে পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ হামলা গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার ঘটনার পর তৎপর হলেও, নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, “এটা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে একটি সাবোট্যাজ পরিকল্পনা হতে পারে, যা পরবর্তীতে তদন্তের বিষয় হয়ে উঠবে।”
গোপালগঞ্জে এনসিপি’র কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা সারা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং মুজিববাদী আদর্শের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। নাহিদ ইসলাম ও তার দলের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদ এবং কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে, তা দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।