জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, আর সেই উত্তাপের মাঝেই সরব হলেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। বুধবার রাতে এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—এনসিপির পদযাত্রা কোনো হঠাৎ কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ।
তার ভাষায়,
“এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এনসিপি এটা খুব ইনটেনশনালি করেছে। আজকের তারিখটা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নিয়েছে, যাতে একটা সংঘর্ষ বাধে।”
মাসুদ কামাল মনে করেন, গোপালগঞ্জে গিয়ে এনসিপি একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, আর সেটিই তারা সফলভাবে দিতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন,
“আপনি একটা পার্টি নিষিদ্ধ করলেন, একটা ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করলেন, একটা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করলেন—তাতে কী? এতে কি সেই দল মানুষের মন থেকে ভ্যানিশ হয়ে যাবে? হয়নি জামায়াত, এটাও হবে না। মানুষের বিশ্বাসের জায়গা কখনো নিষেধাজ্ঞায় ভাঙে না।”
গোপালগঞ্জকে ঘিরে চলমান সহিংসতা প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন,
“আপনারা বলছেন, গোপালগঞ্জে গোলাগুলি, মারামারি, ককটেল বিস্ফোরণ, ১৪৪ ধারা—এসব কিছু ঘটেছে। তাহলে কেউ কি বলতে পারে এই মুহূর্তে দেশে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ আছে? নেই। আপনি গোপালগঞ্জে নির্বাচন না দিয়ে পারবেন? পারছেন না। তাহলে এনসিপির মতো একটি দল প্রার্থী দিতে পারবে না—এটা কি কোনো গণতান্ত্রিক বাস্তবতা?”
এনসিপির ভাষ্য নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও করেন মাসুদ কামাল। তার মতে,
“তারা বঙ্গবন্ধুকে অযাচিতভাবে আক্রমণ করেছে। এটা প্রাসঙ্গিক না, তবুও করেছে। তারা গোপালগঞ্জে গিয়ে এটা করবে আর সেখানকার মানুষ ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানাবে—এটা বাস্তব না। কিন্তু এনসিপির উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। তারা জানত এটা ঘটবে। ঘটনাগুলো ওরা করে নাই, কিন্তু ঘটনাগুলো ঘটবে—এটা জানত।”
তিনি মনে করেন, এনসিপির পদযাত্রা, গোপালগঞ্জকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং প্রশাসনের ভূমিকা—সবকিছু মিলিয়ে এখন যেটা হচ্ছে, সেটা কোনো ‘দূর্ঘটনা’ নয়, বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ।