ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, “দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত করতে আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চেয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “শুধু দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু, ইসলামের শত্রুরাই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের বিরোধিতা করতে পারে।”
এ কথা তিনি গত ১৪ জুলাই, সোমবার, কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন। জনসভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার বিভিন্ন সদস্যরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন।
মুফতি রেজাউল করিম তার বক্তব্যে আরও বলেন, “যারা ৫৩ বছর ধরে রাষ্ট্র শাসন করেছে, তাদের আসল পরিচয় জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। এরা বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে, হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করেছে, এবং লাখো কোটি টাকা পাচার করে কানাডা, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় বেগমপাড়া গড়েছে। তারা আমাদের দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং জনগণকে নির্যাতন করেছে।”
তিনি অব্যাহতভাবে বলেন, “৫ আগস্ট নতুন স্বাধীনতা পেলেও পাশের দেশের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই নতুন স্বাধীনতার অংশীজনদের আচার-আচরণে সংযত থাকতে হবে, যাতে ঐক্য বিনষ্ট না হয়।”
এসময় চরমোনাই পীর আরও উল্লেখ করেন, “সোহাগ হত্যা আইয়ামে জাহেলিয়াতের নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে। আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।”
তিনি কক্সবাজার-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং কক্সবাজারকে পর্যটনবান্ধব আধুনিক সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, কেন্দ্রীয় আমেলা সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এছাড়া, জনসভার শেষে চরমোনাই পীর কক্সবাজারের চারটি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভাটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।