রাজনীতির মঞ্চে একটি নতুন ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তার মতে, বিএনপিকে কোণঠাসা করতে রাষ্ট্রশক্তি, এনসিপি এবং জামায়াত একযোগে কাজ করছে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁদে ফেলার কৌশল নিয়েছে এই তিন শক্তি।
রনি বলেন, “বর্তমানে যে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে, তা আসলে বিএনপিকে ঠকানোর চক্রান্ত। এনসিপি ও জামায়াত মূলত রাষ্ট্রশক্তির সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। অথচ যারা ড. ইউনূসকে নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকায় দেখছিল, তারা এখন বিস্ময়ে হতবাক—কারণ তিনি নিজের নেতৃত্বে একটি দল গঠনের চেষ্টা করছেন এবং একইসঙ্গে ২০-২৫টি ‘কিংস পার্টি’ তৈরি করছেন। এদের তদারকির দায়িত্ব জামায়াতের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এই পুরো পরিকল্পনা বিএনপির বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। দেশের মানুষ এমন সিচুয়েশন কল্পনাও করেনি। একটার পর একটা রাজনৈতিক অমিল, বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ছে।”
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, “সরকার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণের মনে এক ধরনের কৃত্রিম আশা তৈরি করছে। বাস্তবতা ও কথাবার্তার মধ্যে কোনও মিল নেই। গত ১১ মাসে সরকার যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার একটি বাস্তবায়নেরও নজির নেই। বরং প্রতিটি রাজনৈতিক ইস্যুতে তারা শুধু একটা ‘ভাইব’ তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে যা গ্রহণযোগ্য নয়, সেই ধরনের কথাবার্তা আজ সরকার বলছে। নির্বাচনের সময়, মানবিক করিডোর, সেন্ট মার্টিন ইস্যু— সবকিছুতেই ‘যদি এটা হয়, তবে ওটা হতে পারে’—এই ভঙ্গিতে কথাবার্তা চলছে। এটা রাজনীতির সংস্কৃতি নয়। এতে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো নয়, আমাদের রাজনৈতিক সভ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি সংকট মুহূর্তে জামায়াত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা কখনো জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেনি, বরং নিজেদের স্বার্থেই কাজ করেছে।”
গোলাম মাওলা রনির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে, অথচ তার কোন সমাধান নেই। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য এক ধরনের বিপদ সংকেত