ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন,
“চেয়ারের মজা নিতে হলে, চেয়ারের দায়িত্বও নিতে হবে। শুধুই ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করে জনগণের নিরাপত্তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৯ মাসে দেশে ‘মবোক্রেসি’ নামক একটি ভয়াবহ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ২০-৩০ জন মিলে প্রকাশ্যে একজন মানুষের উপর হামলে পড়ে। এই সংস্কৃতি ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।
সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, “১০০ মিটারের মধ্যে আনসার ক্যাম্প ছিল—তারা কী করেছিল? পুলিশ কী করেছিল? ভিডিও না এলে সরকার কি কোনো পদক্ষেপ নিত? তারা এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিক।”
তিনি আরও বলেন, “এক উপদেষ্টার ব্যাগে ম্যাগাজিন পাওয়া যায়, আর তিনি বলেন—বাংলাদেশে কেউ মিসাইল নিয়েও ঘুরলেও নিরাপদ না! এ কেমন নিরাপত্তা?”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যেটুকু জাতীয় ঐকমত্য হয়েছে, সেটাই যথেষ্ট। বাকি সিদ্ধান্ত ১৮ কোটি জনগণের হাতে ছেড়ে দিন—কারণ এ দেশ তাদের।”
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এ বক্তব্য ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।