রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় প্রতীক প্রসঙ্গে জোরালো অবস্থান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“শাপলা ছাড়া আমাদের কোনো অপশন নাই। ইসি যদি শাপলা প্রতীক না দেয়, তাহলে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করা হবে।”
রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১১টায় এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ পাঁচজন।
এনসিপির দাবি, শাপলা প্রতীক তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ। দলটি গত ২২ জুন নিবন্ধনের আবেদন দাখিলের সময়ই নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক দাবি করে। এরও আগে ১৭ এপ্রিল মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য একই প্রতীক চেয়ে আবেদন করে। ফলে একই প্রতীক নিয়ে দুই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইসি সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভোটের প্রতীক তালিকায় শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করেনি। ইতোমধ্যে ১১৫টি প্রতীক তালিকাভুক্ত করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ নিয়ে এনসিপি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলছে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রতীক শাপলা বাদ দেওয়া এক ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য। দলটি এটিকে পরিকল্পিতভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করার কৌশল হিসেবে দেখছে।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “শাপলা প্রতীক আমাদের পরিচয়ের প্রতীক। এটা বাদ দিলে জনগণের কাছ থেকে আমাদের দূরে ঠেলে দেওয়া হবে। আমরা আদালতেও যাব, প্রয়োজনে মাঠেও নামবো।”