বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি ‘জাতীয় সমাবেশ’ করতে যাচ্ছে, যা দলটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ভেন্যুতে আয়োজিত কোনো একক রাজনৈতিক কর্মসূচি। এর আগে নানা সময় পল্টন ময়দান, বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন মোড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলেও সোহরাওয়ার্দীতে এককভাবে কখনও কোনো সমাবেশ করেনি জামায়াত। ফলে এবারের কর্মসূচিকে দলটি নিজেদের জন্য “টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে দেখছে।
পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী উত্তেজনা ও মতবিরোধ জোরালো হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই জামায়াতের এই সমাবেশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জনমত গঠনের লক্ষ্যেই এই সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে জামায়াতে ইসলামী কখনো জনসভা করেনি। এটি হবে আমাদের প্রথম সমাবেশ।”
এই সমাবেশে স্মরণীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে সারা দেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সমাবেশ বাস্তবায়নে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, সঙ্গে রয়েছে একাধিক উপকমিটি।
গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীতে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলামসহ একাধিক সংগঠন বড় বড় সমাবেশ করেছে। কিন্তু জামায়াত ছিল তুলনামূলকভাবে নীরব। এবার তারা সরাসরি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে মাঠে নামছে এবং সমাবেশের সফলতা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি নতুন করে প্রমাণ করতে চায়।
১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জামায়াত রাজনৈতিক মাঠে ফিরলেও, তারা কখনও স্বাধীনভাবে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে প্রথম প্রকাশ্য সভা করেছিল জামায়াত। এরপর শুধু বিএনপির জোটের অংশ হিসেবে যৌথ সমাবেশেই অংশ নিয়েছে দলটি।
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত মনে করছে, এবারের সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জনসমর্থন যাচাই এবং দলের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
শুক্রবার ঢাকার একটি দলীয় অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামের পতাকা উত্তোলন এবং ইসলামি ঐক্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সবার চাওয়া-পাওয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জাতীয় সমাবেশ হলো আমাদের টার্নিং পয়েন্ট।”
তিনি সমাবেশ সফল করতে দলের সব নেতাকর্মীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।