সংস্কার ও বিচারের শর্তে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন,
“সংস্কার ও বিচার চলমান প্রক্রিয়া—তবে তার আগে গণতন্ত্র বন্ধক রাখা যাবে না। আমরা কোনোভাবেই ‘আগে বিচার, পরে গণতন্ত্র’ বা ‘আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন’ এই রকম তামাশা শুনতে চাই না। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়।”
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মহানগরের মালোপাড়ায় বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. মঈন খান বলেন,
“বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ। যারা ভোট দিতে পারেনি গত ১৬ বছরে, তারা চোখে পানি নিয়ে অধীর অপেক্ষায়। তাদের জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এই দায়িত্ব নিয়েছে, সুতরাং আস্থার প্রতিদান দিতে এখনই নির্বাচন দিন ঘোষণার সময়।”
তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“১৬ বছর যেমন ধৈর্য ধরেছেন, আরও কয়েক মাস সহ্য করুন। নিয়মভঙ্গ করে নয়, শৃঙ্খলার ভেতরে থেকেই জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হবে। জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে সেটা গণতন্ত্র হয় না, হয় স্বৈরাচার। বিএনপি কখনও স্বৈরাচারে বিশ্বাস করেনি।”
আওয়ামী লীগের অতীতের কথা টেনে তিনি বলেন,
“আজ ১১ মাস ধরে তারা দুঃস্বপ্নে ভুগছে, কেউই সাহস করে বলেনি ‘আমরা ভুল করেছি’। এটাই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার প্রমাণ। দেশের মানুষ তাদের বর্জন করেছে। বিএনপি যেন সেই পথ না নেয়, এটাই আমাদের হুঁশিয়ারি।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মো. এরশাদ আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগরের সদস্যসচিব মো. মামুন-অর-রশিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা প্রমুখ।