পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ব্যবসায়ী চাঁদ সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভেতর তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভীষিকাময় ভিডিওতে দেখা যায়—রাস্তার ওপর ফেলে সোহাগকে কংক্রিটের টুকরো দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশের ওপর লাফিয়ে নাচতে থাকে ঘাতকরা।
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে যুবদলের নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসতেই নিন্দার ঝড় বইছে সারা দেশে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ, এমনকি বিএনপিপন্থী শিক্ষার্থীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ ধরনের নৃশংসতার দায় থেকে।
ফলশ্রুতিতে দেখা দিয়েছে ছাত্রদলে অভূতপূর্ব পদত্যাগের ঢল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখার আবু সায়ীদ ক্ষোভের ভাষায় লিখেছেন—“যেদিন প্রকৃত স্বচ্ছ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ডাক আসবে, সেদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলের অগ্রভাগে থাকব, প্রথম বুলেটের শিকার হতে প্রস্তুত। কিন্তু এমন বর্বরতার দায় নিয়ে নয়।”
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক লিসানুল আলম লিসান লিখেছেন, ‘যখন ছাত্রদল নীতিবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে, তখন পদে থাকা অর্থহীন। দেশের মাটি, দেশের শান্তিই সবচেয়ে দামি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ রানা প্রান্ত, রাকিবুল হাসান রানা, সরকারি বাঙলা কলেজের রাসেল মিয়াসহ অন্তত ৯ জন ছাত্রদল নেতা একে একে ফেসবুক পোস্টে নিজেদের পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন।
পদত্যাগপত্রে উঠে এসেছে ক্ষোভ, হতাশা, বেদনা আর নৈতিক দায়বোধের ভাষা। কেউ লিখেছেন, ‘বাবা-মায়ের মুখে গালি শুনে গুনাহ কামাতে চাই না’, কেউ লিখেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।’
মিটফোর্ডের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, দেশের ছাত্র রাজনীতিতে আস্থার সঙ্কটকেও নগ্ন করে দিয়েছে। তরুণরা বলছে—রাজনীতি মানে খুন নয়, রাজনীতি মানে মানুষের জন্য লড়াই। তাই এমন রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তারা নিজের বিবেকের কাছে দায়মুক্তি চাইছে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এই পদত্যাগ বিএনপির জন্যও বড় বার্তা—ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের রাজনীতির পথে না ফিরলে হারাবে তরুণ প্রজন্মের আস্থা।