নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির। কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেউ যদি আবার দাসত্বের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে, তাহলে খুনি হাসিনা ও ছাত্রলীগের পরিণতির চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ কর্মসূচি সারা দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে মিটফোর্ডে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সাদিক কায়েম বলেন,
“সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে আহ্বান জানাচ্ছি—পাড়া-মহল্লায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ছাত্রশিবির সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,
“জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময় নতুন করে একটি সন্ত্রাসী শক্তি আবার প্রকাশ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে, ধর্ষণ করছে, পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করছে—তাদের ক্ষমতা স্বপ্নে পরিণত হবে।”
সমাবেশে ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন,
“গতকাল মিটফোর্ডে আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা সারা দেশে বাজার-ঘাটে, দোকান-পাটে চাঁদাবাজি চালায়, তাদের শেষ সময় এসে গেছে। যেভাবে জনগণ ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে, ঠিক তেমনভাবেই এই চাঁদাবাজদেরও তাড়িয়ে দেবে।”
ছাত্র অধিকারবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন,
“ক্ষমতার স্বাদ পায়নি এখনও, অথচ খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। জনগণ খুনি-চাঁদাবাজদেরকে আর সহ্য করবে না।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন,
“জুলাই বিপ্লব আওয়ামী জাহেলিয়াতকে কবর দিয়েছিল। এখন আবার জাতীয়তাবাদী জাহেলিয়াত ঘাড় তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। যদি সময় থাকতে সন্ত্রাসীদের দমন না করেন, ছাত্র জনতা রাজপথে নেমে রুখে দেবে।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।