ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পৈশাচিক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস বা বর্বরতার কোনো যোগসূত্র নেই।”
শুক্রবার (১১ জুলাই) দলটির সহ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধুই একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি—এটি আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির করুণ চিত্র এবং নাগরিক নিরাপত্তার চরম অবনতির প্রমাণ।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমাদের সংগঠনের মূলনীতি, আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কোনো মিল নেই। যারা এই অপরাধে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন—তাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। কোনো অপরাধীই ন্যায়ের ঊর্ধ্বে নয়।”
তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী সরকারের পতনের পরও দেশে যেভাবে বর্বরতা চলছে, তা দেশের মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এ ধরনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হয়, তবে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আমাদের সমাজকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের রাস্তায় সোহাগ নামের ওই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যার সময় ইট-পাথর দিয়ে তার মাথা থেঁতলে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, হত্যার পর মরদেহের ওপর বর্বরতা চালানোর দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে যাদের ধরা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠন কখনো অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো রকম শৈথিল্য না দেখানোরও আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপি স্পষ্টভাবে বলছে—এই ধরনের অমানবিক ঘটনাকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আড়াল করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বরং নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে সমাজে আইনের প্রতি বিশ্বাস হারাবে সাধারণ মানুষ।