জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেছেন, “আমরা কখনোই মাঠ ছেড়ে যাইনি। কখনো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে আপস করিনি। আমাদেরকে আপস করতে ডাকার চেষ্টা করে লাভ নেই। এই বাংলাদেশকে নতুন করে সাজাতে হবে আমাদেরই।” বৃহস্পতিবার নাটোরে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমার এই আশাবাদ প্রথম দিন থেকেই ছিল। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের নানান গল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আপনাদের মধ্যেই। আমরা সারা দেশ ঘুরে সেই গল্প সংগ্রহ করছি।”
নাটোরের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে সামান্তা শারমিন বলেন, “এই নাটোর কোনো সাধারণ জায়গা নয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই জেলা অবদান রেখে আসছে। সংগ্রাম করে বাঁচতে শিখিয়েছে এই জনপদ। রানী ভবানীর মতো নারীরা এই অঞ্চলের গর্ব। এখানে নারীরা কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হত না যদি বাংলাদেশের নারীরা রাজপথে না নামতেন। নারীদের ত্যাগ, বিসর্জন, তীক্ষ্ণতা—সবই বাংলাদেশকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।”
নাটোরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শহীদদের মাটির মানুষ। জানেন কারা আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আহ্বান জানাচ্ছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার। পরিবার, দেহ, সম্পত্তি—সব হারিয়েছেন।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আপনাদের সামনে যারা দাঁড়িয়েছেন, তারা সবাই ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতা। তাঁরা ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারবিরোধী ও আগ্রাসনবিরোধী। এনসিপি আপনাদের প্রতিজ্ঞা করছে—আমরা এই বাংলাদেশকে নতুন করে সাজাবো। আমরা একটি নতুন সংবিধান উপহার দেবো। এই সংবিধান আমাদের এতদিন করদ রাজ্যে পরিণত করে রেখেছে।”
শেষে সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা আর কখনো আপস করতে পারব না। কারণ আমরা অভ্যুত্থানের শক্তি।”