মনিরুল ইসলাম , নাটোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশকে একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই সনদের’ প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে নাটোর শহরের মাদরাসা মোড়ের স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসীবাদী সরকার হটাতে পেরেছি, কিন্তু এতেই শেষ নয়। দেশের মৌলিক সংস্কারে রূপান্তর ঘটাতে না পারলে এই বিজয় অর্থহীন হয়ে যাবে। একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে জুলাই ঘোষণাপত্র এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন, তাদের শহীদের মর্যাদা দিয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। আর যারা আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে যাবে।”
এ সময় গত ৫ আগস্ট বিজয়ের পর থেকে কিছু পক্ষকে জনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “নাটোরে ব্যানার ছিঁড়ে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। যারা এক বছর আগেও বাঁধা দিয়েছিল, তাদের আজ কোনো অবস্থান নেই। এবারও যারা বাধা দেবে, তাদেরও সেই পরিণতি হবে।”
এর আগে দুপুরে রাজশাহী থেকে সড়কপথে নাটোরে পৌঁছান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। নাটোর-রাজশাহী সীমান্তে নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান। পরে তারা স্টেশন বাজার থেকে পদযাত্রা করে স্বাধীনতা চত্বরে এসে পথসভায় মিলিত হন।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। বক্তব্য দেন—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবীন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল, নাটোর জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ জার্জিস কাদিও এবং সিনিয়র যুগ্ম সমন্বয়কারী ও নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মান্নাফ প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা শারওয়ার নিভা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং ডা. তাসনিম জারা।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে নাটোরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আটজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের চেতনায় আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। মৌলিক কাঠামোয় বাধা এলে, জনগণ আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”