বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল। অথচ একটি কুচক্রীমহল বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
রোববার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিএনপির লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করেছেন, আমরা সেটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়, তারা আসলে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়।”
তিনি বলেন, বিএনপি গঠনমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী। ঐকমত্য কমিশনের কাজ নিয়েও দলের স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। “ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে যেমন আশা ও আগ্রহ আছে, তেমনি হতাশা ও উৎকণ্ঠাও রয়েছে। আমরা চাই সঠিক সিদ্ধান্ত আসুক। এজন্য বিএনপির প্রতিনিধি দল যুক্তি দিয়ে কমিশনকে সহযোগিতা করছে,” বলেন তিনি।
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে আমরা আগেই আমাদের মতামত দিয়েছি। এরপর আর কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে বিএনপি আলোচনার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে বিএনপিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা বিভাজনের চেষ্টা করা রাজনীতির জন্যই ক্ষতিকর। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, যেটি দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিএনপির আর কোনো এজেন্ডা নেই।”
মির্জা ফখরুলের ভাষায়, যারা বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে দাগিয়ে দিতে চাইছে, তারা আসলে একটি কুচক্রীমহল, যাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া।