বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারে বা বিরোধী— উভয় অবস্থানেই জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র কাঠামো চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
রবিবার (২৯ জুন) এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন, “বিএনপি মনে করে না যে তারা সবসময় সরকারি দল থাকবে। বরং আমরা চাই, সরকার ও বিরোধী— দুই অবস্থানেই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ব্যবস্থা থাকুক। রাষ্ট্র যেন কারও ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত না হয়।”
তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি কীভাবে এই ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আমরা সেই অপচেষ্টার শিকার। এজন্যই ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ২৯ দফা দিয়েছিল, যা পরে ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ, যেখানে কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা রয়েছে।”
মিলন বলেন, “আপনি যদি ধরে নেন বিএনপি সরকারে আসবে আর তারপরও তাকে নড়বড়ে করা যায়— সেটি হবে আত্মঘাতী। এজন্যই বিএনপি স্বীকার করে যে যেসব সংস্কার দরকার তা সকলের স্বার্থে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকারে থেকেছে, আবার নিপীড়িতও হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে চাই।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি টেনে মিলন বলেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দেশের স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত আপাত অজনপ্রিয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা জনপ্রিয় হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি ক্ষমতায় গিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চায়, তার পরিণতি ভয়াবহ হয়। বিএনপি কখনো এমন কিছু করেনি যে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও ওয়ান-ইলেভেন বা পরবর্তীতে সব নিপীড়নের সময় দেশ ছাড়েননি।”
নারী সংরক্ষিত আসন ও আপার হাউস নিয়ে কিছু আপত্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বাস্তবতায় আসনভিত্তিক আপার হাউস চালু করলে ছোট দলগুলো ভোট পেয়ে থেকেও প্রতিনিধিত্ব নাও পেতে পারে। এজন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ হিসেবে ৩১ দফা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয়ের খুঁটিনাটি যাচাই করা হচ্ছে।”