প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রতীক্ষিত ভাষণে দেশের জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ জুন) রাতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“ভাষণে নানা বিষয়ে কথা থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়—নির্বাচনের সময় ঘোষণা—সেটি নিয়ে জাতি হতাশ হয়েছে।”
সালাহউদ্দিন বলেন,
“প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে সরকারের কৃতিত্ব, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সম্ভাব্য রূপরেখা সবই তুলে ধরেছেন। তবে নির্বাচনের সময় নির্ধারণে তিনি যা বলেছেন, তা জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন সময়সূচি জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি দাবি করেন, দেশের ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অনেক আগেই নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপিও বারবার এই সময়সীমা যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করেছে। অথচ সেই বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন সময় নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যখন একদিকে থাকবে পাবলিক পরীক্ষা, অন্যদিকে শুরু হবে পবিত্র রমজান।
“ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই রমজান শুরু হবে—সে হিসেবে এপ্রিল নির্বাচন মানে রমজান মাসে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে। এটি বাস্তবসম্মতও নয়, গণতান্ত্রিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়,”—জোর দিয়ে বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক মনে করেন,
“যদি সরকার বা অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ সত্যিই একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও জাতির স্বার্থে নির্বাচনের পথে হাঁটতে চাইত, তাহলে ডিসেম্বর কিংবা সর্বোচ্চ জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা দেওয়া হতো। এখন যা বলা হয়েছে, তা সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু নয়।”
তিনি আরও জানান, দলীয় পর্যায়ে এই ভাষণের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সালাহউদ্দিন আহমদের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই বিএনপির অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট—প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়সূচিকে তারা মানতে নারাজ।
দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই ভাষণ থেকে যে ‘দিকনির্দেশনা’ জাতি আশা করেছিল, তা আদৌ মিলেছে কি না—এ নিয়ে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য সেই অসন্তোষের প্রতিধ্বনি মাত্র।