দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান যে আগের চেয়ে কঠোর হয়েছে, তা ফের স্পষ্ট হলো দুই শীর্ষ নেতাকে শোকজের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও বরকতউল্লা বুলুর নামে পৃথক শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রুহুল কবির রিজভী।
সম্প্রতি শামসুজ্জামান দুদু ও বরকতউল্লা বুলুর দেওয়া দুটি বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শামসুজ্জামান দুদু বলেন,
“বিএনপি নেতারা একসঙ্গে প্রস্রাব করলে, সেই তোড়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বা। এমন কথা বলো না, যার জবাব তুমি নিতে পারবে না। বিএনপি যদি শুধু থুথু ফেলে, সেই থুথুর ভেতরেও তোমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ভাষাগত আক্রমণ ও কটূক্তি নিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে ভাইরাল হয়েছে দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুর একটি বক্তব্য, যেখানে তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা যায়। এই মন্তব্যকেও রাজনৈতিক শালীনতা এবং কৌশলগত অবস্থান পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিএনপির অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এখন ‘সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়’-এর মধ্যে রয়েছে। যেখানে প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি অবস্থান অত্যন্ত কৌশলী এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটেই দলের ভেতরে থাকা শীর্ষ নেতাদের অপ্রত্যাশিত, উগ্র ও স্পর্শকাতর মন্তব্যগুলোকে আর এড়িয়ে যাচ্ছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শোকজের মাধ্যমে দলের অবস্থান স্পষ্ট—বিএনপি একদিকে যেমন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে দলীয় ঐক্য ও জনসমর্থনের জন্য নেতৃত্বের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির শুদ্ধতা বজায় রাখতে চায়।
দুই নেতাকে দেওয়া শোকজ নোটিশের মাধ্যমে বিএনপি একটি বার্তা দিতে চেয়েছে—দলের ভেতরে হোক বা বাইরে, দায়িত্বহীন বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। এখন দেখার বিষয়—দুদু ও বুলুর জবাব কী আসে, এবং এর ভিত্তিতে পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী হয়।