নির্বাচনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থান জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব মো. আখতার হোসেন বলেছেন,
“সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা জাতির সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল হবে।”
এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা শুধু একটি নির্বাচনের দাবি করছি না, আমরা বলছি একটি কাঠামোগত রূপান্তরের কথা—যেখানে ভোট শুধু একটি দিবস নয়, বরং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বাস্তব মাধ্যম হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“বিগত ৫০ বছরে ১৬ কোটি মানুষ প্রকৃত অর্থে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা এখন এমন একটি নির্বাচন চায়, যেখানে সত্যিকার গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিফলিত হবে।”
আখতার হোসেন বলেন,
“নির্বাচন জুনে হবে না ডিসেম্বরে—তা বড় বিষয় নয়। বড় প্রশ্ন হলো—এই নির্বাচনের আগে কী আমরা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করতে পারব? মানুষ দেখতে চায়, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, তাদের বিচার হচ্ছে। সংবিধান, সংসদ কাঠামো, সংরক্ষিত নারী আসন, উচ্চ-নিম্নকক্ষ—এই সব মৌলিক বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি পুরনো কাঠামো অক্ষত রেখে কেবল নির্বাচন আয়োজন করা হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা এক মুহূর্তেই ধসে পড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারকে কেবল নির্বাচনের তদারকি নয়, বরং একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা নিতে হবে।”
আখতার হোসেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নতুন রাষ্ট্র কাঠামো কেমন হবে—সে বিষয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য জরুরি। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যা ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পথ তৈরি করে দেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই অবস্থান কেবল আরেকটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—এটি বৃহত্তর জাতীয় পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শাসকগোষ্ঠী ও বিরোধী দলসমূহ এই প্রশ্নে কেমন প্রতিক্রিয়া জানায়।