বিএনপির নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচিত মেয়র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন রোববার হাইকোর্টে নতুন একটি রিট আবেদন করেছেন, যেখানে তার মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দাখিলের মধ্য দিয়ে দেশের চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
এই রিট এমন এক সময়ে করা হলো, যখন মাত্র কদিন আগেই হাইকোর্ট বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এক প্রতিপক্ষ রিট খারিজ করে দেন, যা ইশরাকের শপথ গ্রহণে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে ইঙ্গিত দেয়। ওই আদেশে আদালত সাফ জানিয়ে দেন, রিটকারী মামুনুর রশিদ এ মামলায় কোনো আইনগত এখতিয়ার রাখেন না, ফলে রিটটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে ততক্ষণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গড়িয়েছে প্রচণ্ড চাপ ও পাল্টা চাপের খেলা। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ, আদালতের রায় এবং রাজপথে বিএনপি কর্মীদের টানা অবস্থান—সব মিলিয়ে ইশরাক ইস্যু কেবল একজন মেয়রের শপথকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পুরো নির্বাচনব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক বহুমাত্রিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ১৪ মে প্রথম দফায় হাইকোর্টে যে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল, সেখানে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু আদালত বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করে তা আমলে নেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইশরাকের এই রিট কেবল শপথের আইনি গতি নির্ধারণ করবে না, বরং এটি পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য একটি সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এদিকে বিএনপি বলছে,
“শপথ যদি এখন না হয়, তবে এটিকে আদালত অবমাননার শামিল হিসেবে দেখা উচিত।”
অপরদিকে, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মহল একে বিএনপির নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছে।
রাজপথে উত্তেজনা, আদালতে লড়াই এবং প্রশাসনিক পটভূমিতে চলমান চাপ—সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপদ এখন কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে চলমান রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ইশরাক হোসেনের এই রিট আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।