জামায়াতকে একহাত নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। কিশোরগঞ্জের ইটনায় আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও পথসভায় তিনি বলেন, “যারা একলা নির্বাচন করলে ৩টা সিট পাবে না, তারা এখন ৩০০ সিটের দখলদারি দেখাচ্ছে। প্রশাসন দখল করে বসে আছে। ডিসি, ইউএনও তাদের কথায় উঠে-বসে। অথচ মাঠে দুই পারসেন্ট লোকও নাই। পায়ের ওপর পা তুলে কথা বলে—এই দম্ভ কোথা থেকে আসে?”
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টায় ইটনা সদরের পুরান বাজারে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলুর রহমান সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যদি সত্যিকারের বাপের বেটা হন, তাহলে ভোটে আসুন। ইলেকশনে দেখা যাবে দেশের মানুষ কাকে সমর্থন করে, কে ক্ষমতায় যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। মুখে মুখে বেটাগিরি না করে মাঠে প্রমাণ দিন।”
জামায়াতের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের আমিরকে আমি জিজ্ঞেস করব—আমি কি মিথ্যা বলেছি? তাহলে আপনারা আমার নামে গালিগালাজ করেন কেন? আমাকে ‘ফজু পাগলা’ বলেন কেন? ঠিক আছে, আপনারা পাল্লা নেন, আমরা ধানের শীষ নেব। জনতাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। যার পক্ষে তারা রায় দেবে, সে-ই দেশ চালাবে।”
ফজলুর রহমান আরও বলেন, “আপনার ভাইয়ের সন্তানের জ্বালায় বাঁচা দায়, তার ওপর এখন সৎ ভাইয়ের সন্তানরাও এসে হাজির। কারা? যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালালি করেছে, রাজাকার-আলবদর ছিল। তারা এখন জুতা মারে আমার পোস্টারে। মারুক—কপালেও মারুক। আমি গর্ব করে বলি, বাংলাদেশ স্বাধীন করে তাদের মাফ করেছি বলেই তো আজ বেঁচে আছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ফজলুর রহমান বলেন, “কলাগাছ কখনও বটগাছের চেয়ে বড় হয় না। অনির্বাচিত সরকার কখনও নির্বাচিত সরকারের চেয়ে বড় হতে পারে না। তারা আজ গণতন্ত্রকে গলা টিপে ধরেছে। আগে বলেছিল ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে। এখন বলছে জুনে হবে। এরপর বলবে—জুনে তো আওয়ামী লীগের জন্মদিন, ফ্যাসিস্টদের জন্মমাস, সুতরাং ভোট হবে না। আবার আগস্ট-সেপ্টেম্বর আসলে বলবে—এটা তো আন্দোলনের মাস, বিপ্লবের সময়। আবার পেছাবে। এভাবেই কূটকৌশল করে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। কারণ তারা জানে, ভোট হলে বিএনপি ৮০ ভাগ ভোট পাবে।”
সভাপতিত্ব করেন ইটনা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ ছালেক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম, ইটনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির শক্ত অবস্থান ও জামায়াতের দোলাচল নিয়ে ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—এই দেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বললেই গালিগালাজ, অপবাদ আর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। কিন্তু ভয় পাওয়ার কোনো জায়গা নেই—কারণ জনগণের রায়েই নির্ধারিত হবে কে দেশ চালাবে, আর কে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত বলে সন্দেহ করছেন অনেকে। আপনি কী মনে করেন?