বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সুপরিচিত মুখ আসিফ আকবর সম্প্রতি একটি আলোচিত টকশোতে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য এবং শিল্প-সংস্কৃতি জগতের নানা সংকট নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তার বিশ্লেষণমূলক বক্তব্যে স্পষ্ট উঠে এসেছে রাজনৈতিক সংস্কারের অপরিহার্যতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সংকট এবং বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা।
আসিফ আকবর তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবকে একটি “যুগান্তকারী ঘটনা” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই বিপ্লব ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সোচ্চার প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। তার মতে, “এই বিপ্লবের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল, একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে—যেখানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও তরুণ প্রজন্ম একত্রে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।” তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আবারও রাজনৈতিক সংঘাত, বিভাজন ও প্রতিহিংসার ধারায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিপদসংকেত।
প্রাক্তন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আসিফ আকবর বলেন, তিনি বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থাকলেও একজন সমর্থক হিসেবে বিএনপির সঙ্গে আবেগগত সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং আত্মসমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দল ভুল করতেই পারে, কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়েই সংশোধনের পথ তৈরি হয়।” খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার শেষ সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বেগম জিয়া আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন আমি আমার সাংস্কৃতিক কাজের মাধ্যমে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকি। আমি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না থাকলেও, তার দেখানো পথেই আছি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে গণভোটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আসিফ আকবর বলেন, “যদি আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো দেশগুলো সংবিধানকে বাস্তবতার আলোকে নমনীয় করে তোলে, তবে বাংলাদেশেও একই ধরনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।”
শিল্প ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে এসে আসিফ আকবর তীব্র ভাষায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, “প্রতিবার ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কিছু শিল্পীকে কালো তালিকাভুক্ত করার অপসংস্কৃতি এই জাতির জন্য একধরনের সাংস্কৃতিক আত্মঘাত। একটি শিল্পী কেবলমাত্র তার রাজনৈতিক চিন্তাধারার জন্য বঞ্চিত হবেন, এটি একটি অসভ্য চিন্তাধারা।”
তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, “বিএনপি একটি আনকালচার্ড দল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিএনপির সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব ও সাংগঠনিক অবহেলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত জাসাস (জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা)-এর পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানান, এবং মনে করিয়ে দেন যে বিএনপির যদি সাংগঠনিকভাবে টিকে থাকতে হয়, তবে সংস্কৃতি জগতে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সমগ্র আলোচনায় আসিফ আকবর একজন দায়িত্বশীল শিল্পী হিসেবে কেবল রাজনীতি নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তোলার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বছরের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব বলে কি আপনিও মনে করেন?