নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদের পথসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নামধারী একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার জাহাজমারা বাজারে এ হামলা চালানো হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় আবদুল হান্নান মাসুদসহ দলের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পথসভায় হামলার ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা রাত সাড়ে ৮টা থেকে জাহাজমারা বাজারের ওছখালি-জাহাজমারা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীনও সেখানে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে রাত প্রায় ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা বাধ্য হয়ে সড়ক ছেড়ে সরে যায়।
হান্নান মাসুদের সমর্থকরা জানিয়েছেন, গত শনিবার তিনি হাতিয়ায় আসেন স্থানীয় দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতে। ধারাবাহিক সফরের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে তিনি জাহাজমারা বাজারে যান এবং ইফতার শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাজারে একটি পথসভায় বক্তব্য প্রদান শুরু করেন।
তারা আরও জানায়, বিএনপি নামধারী একদল লোক বাজারের পশ্চিম দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে এসে অতর্কিতে পথসভায় বাধা দেয় এবং হামলা চালায়। তাদের হামলায় আবদুল হান্নান মাসুদসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে। কিন্তু সেখানেও হামলার শিকার হতে হয় তাদের। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার বিষয়ে জানতে আবদুল হান্নান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে এনসিপির নেতাকর্মীরা এই হামলার জন্য বিএনপি নামধারীদের দায়ী করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা ফজলুল হক খোকন বলেন, “জাহাজমারায় কারা কি করেছে, আমি তা কিছুই জানি না।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, “হান্নান মাসুদের পথসভায় হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।