সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,এই নিষেধাজ্ঞা একটি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্পদের গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের স্বার্থে তারা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিমানবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।
একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “আমরা বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের উৎস যাচাই করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার দেশত্যাগ বন্ধ রাখা হয়েছে।”
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেকের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য, দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি জমি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, এসিআই কোম্পানি ও আদম ব্যবসায়ী নূর আলীর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। অনুসন্ধান চলাকালে তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, যার কারণে আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এদিকে, আদালত এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ তমালের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানের করা আবেদনে বলা হয়, পারভেজ তমাল শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ ও সম্পদের হিসাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পালানোর সুযোগ পাবেন না এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।