জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-জনতার নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। নতুন এই দলের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি থাকতে পারেন সরকারে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিরা। তবে রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁরা সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন। তিন ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেও সরকারে ছাত্রদের প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে চান তাঁরা
বর্তমানে তিন ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে।
এরা হলেন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এই তিনজন ধাপে ধাপে পদত্যাগ করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, দল ঘোষণার আগ মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। যিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পদত্যাগ করবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আর উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সবার শেষে পদত্যাগ করতে পারেন।
এদিকে সংস্কার কমিশনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রদের প্রতিনিধি রয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সরকারে ভূমিকা রাখছেন। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে তারা নিজেকে যুক্ত করছেন বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায়। অন্যদিকে দল গঠনের প্রক্রিয়াও অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ঘোষিত হতে পারে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল। শুরুতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন তারা। ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফরম জাতীয় নাগরিক কমিটি এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে। যদিও নাগরিক কমিটি সরাসরি রাজনৈতিক শক্তি হবে না। তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে।
দল গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সারা দেশে আড়াই শতাধিক কমিটি দিয়েছে নাগরিক কমিটি। দল ঘোষণা আসার আগে সেটিকে চার শতাধিকে উন্নীত করতে চায় সংগঠনটি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও জেলায় জেলায় কমিটি দিচ্ছে। এ ছাড়া নতুন দলের নাম ও দলীয় প্রতীক নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরও মতামত নেবে নাগরিক কমিটি। যে কেউ অনলাইন অফলাইনে তাদের মতামত দিতে পারবেন। এ ছাড়াও ছাত্ররা দল গঠনের আগে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। উদ্দেশ্য, তাদের নতুন দলে ভেড়ানো।