ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের প্রধান কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী এস আলম গ্রুপকে সরকার আবারও মালিকানায় পুনর্বাসিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের করা জনস্বার্থমূলক অধ্যাদেশগুলো পরিবর্তন করে লুটেরাদের সুবিধা করে দিচ্ছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এস আলম ব্যাংকের মালিক ছিল।
তারা ইসলামী ব্যাংকসহ চারটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যা বিদেশে পাচার করা হয়েছে অথবা নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো সচল করা হলেও এখন তা আবার এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ব্যাংকগুলো সচল করেছে। এখন আবার মালিকানার শর্ত শিথিল করে মাত্র ৭ শতাংশ মালিকানা থাকলেই পূর্বের মালিকানা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এতে করে এস আলমকে কার্যত চারটি ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ সরকারের ওপর বিশেষ এক নেতার প্রভাব নিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘তিনি তো ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী এখন। তিনি তো আর ওই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই; আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি বাংলাদেশের সব কিছুই চালাচ্ছেন। সালাহউদ্দিনের ওপরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা নেই।’
রাজনৈতিক সংস্কার ও ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি সরকারকে ‘মুনাফিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই বেঈমানি করছে, দ্বিচারিতা করছে। নিজেদের ৩১ দফার প্রথম দফা রাষ্ট্র সংস্কারকেই এখন অস্বীকার করছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও গণভোটের রায় অমান্য করার নজির নেই।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জিডিপি গ্রোথ রেট ৩.৬৯ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটে মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। অনলাইন শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। গ্রামের শিক্ষার্থীরা হেঁটে স্কুলে যায়। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনলাইন ক্লাস চালু করা অযৌক্তিক। এই নীতিনির্ধারণ আরো ভেবেচিন্তে হওয়া উচিত ছিল।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির গঠনতান্ত্রিকভাবে দাবি জানাবে। তবে সরকার যদি নমনীয় না হয় এবং ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটে, তাহলে অতীতের মতোই সেই পরিণতির দিকেই আমাদের আন্দোলন অগ্রসর হবে।’
মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।