জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ‘ভোটের ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ভোটের ফলাফলের আপনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে আজকে এই ক্ষমতায় এসেছেন। এটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানেন। এজন্য আপনারা জোর করে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারেন না, দেশের জনগণের উপর চাপিয়ে থাকতে পারবেন না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বাদ আসর, রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশের আয়োজকরা ‘জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার’ দাবি করেছিল।
আজহার বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। “আমাদেরকে রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না।
রাজপথের আন্দোলনের ফলাফল সরকারি দলের জন্য কখনও সুখকর হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। আমাদেরকে জুলুম ও অত্যাচারের ভয়ে ডরাবেন না। সব কষ্ট পার করে আমরা আজকে এই অবস্থানে পৌঁছেছি। সময় থাকতে যদি সরকার চালাতে চান, জুলাই সনদ মেনে নিন এবং কার্যকর করুন।
তিনি আরও বলেন, আজ গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়, এর মধ্য দিয়ে তারা আবার আওয়ামী লীগের কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সমস্ত ক্ষমতা দিতে চায়। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছরে এক ব্যক্তির ক্ষমতার শাসন দেখেছি। আমাদের হাজার হাজার ভাই জীবন দিয়েছে।
জামায়াতের সিনিয়র নেতা আজহার বলেন, আমরা সর্বদা জনগণের পাশে থাকি। আজ একজন ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে যদি আপনারা দুঃস্বপ্ন দেখেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
তিনি সরকারের প্রতি আরও বলেন, আমাদের আবার রাজপথে অবস্থান করতে বাধ্য করবেন না। যা সংসদে সমাধানযোগ্য, সেটি সংসদেই সমাধান করুন। যদি সংসদের কথা রাজপথে আনা হয়, তবে জনগণের জন্য কোনো ফলাফল সুখকর হবে না। রাজপথের আন্দোলন কখনও ব্যর্থ হয়নি, ইনশাআল্লাহ সফল হবে।
আজহার আওয়ামী লীগের উদাহরণ টেনে বলেন, একটি দল পালিয়ে গিয়ে আরেকটা দেশে আশ্রয় পেয়েছে। জানিনা, আপনারা সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছেন। আপনার জায়গা কোথায় হবে?
তিনি জ্বালানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বলেন, শুনতে পাচ্ছি, তেলের দাম বাড়ানো হবে। যদি দাম বাড়ানো হয়, আমরা একটি প্রস্তাব রাখছি। আপনারা যেভাবে কার্ড বিতরণ করেন—ফ্যামিলি কার্ড, অমুক কার্ড—তেমনভাবে সবাইকে জ্বালানি কার্ড দিলে আমরা দাম বৃদ্ধির আপত্তি করব না।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াত
নেতা মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মখলেসুর রহমান কাসেমী।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর পর্যন্ত চলে।