‘কোনো বিপ্লব বা কোনো গণ-অভ্যুত্থান কোনো সংবিধানের অধীনে হয় না। এটা জনগণের ইচ্ছায়, আকাঙ্ক্ষায় হয়। সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই এ পর্যন্ত আমরা এসেছি। যেমন ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের কোনো প্রভিশন নাই। ৯০ দিনের মধ্যে ইলেকশন করতে হবে-যদি এ রকম সিচুয়েশন হয় সেইটা আমরা মানিনি, মানতে পারিনি। অনেক কিছু আইনের অনেক ব্যত্যয় ঘটিয়েই আমরা এই জায়গায় এসেছি’।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, আইন জনগণের জন্য, আইনের জন্য জনগণ নয়; সংবিধান জনগণের জন্য, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। এ রকম অতীতে গণভোট হয়েছে যা সংবিধানে ছিল না, সেই গণভোটও হয়েছে এবং তার ফলও জাতি ভোগ করেছে।
সংবিধান সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়েছে, আমরা বলেছি এখানে সংস্কার পরিষদ এবং পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত এই নোটিশকে কেন্দ্র করে যদি কোনো সংস্কার বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা এটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
তবে শর্ত হচ্ছে, সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। যদি সমান সংখ্যক সদস্য না থাকে, সংসদের সদস্যদের অনুপাত হারে যদি সেখানে সদস্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সেখান থেকে ভালো কোন আউটকাম আসার সম্ভাবনা নেই।
‘আমরা এই প্রস্তাব নমনীয়ভাবে দেখার পর মাননীয় আইনমন্ত্রী তিনি বক্তৃতায় উঠে আমাকে মিসকোট করেছেন’-অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘তিনি (আইনমন্ত্রী) বলেছেন, এই প্রস্তাব তারা যেভাবে সংবিধান সংশোধনের জন্য দিয়েছেন আমরা সেটা গ্রহণ করেছি।
আসলে আমরা সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবে মতামত দিইনি। আমরা বলেছি বিষয়টা ‘সংবিধান সংস্কার’। কাজেই এখানে আশা করি ভুল বোঝাবুঝি হবে না, কারণ আমার বক্তব্য স্পষ্ট ছিল, কোনো অস্পষ্টতা ছিল না।
বিরোধী দলীয় নেতা যোগ করেন, আমরা এই বিষয়টা ক্লারিফাই করতে চাইলাম যখন, তখন আলোচনার কর্মঘণ্টা শেষ। মাননীয় স্পিকার বললেন যে আজকের আলোচনা এখানে সমাপ্ত হলো। আমি যখন বললাম যে আমাদের তো কৈফিয়ত আছে, সুযোগ দেওয়া হোক, উনি বললেন কালকে এটা সুযোগ দেবেন। তো এইভাবে বিষয়টা আপাতত এসে দাঁড়িয়েছে।
‘যেহেতু ৬৮ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি এই গণ রায়কে সম্মান করার জন্য। তাহলে তারাও সম্মানিত হবেন। আমরা বলেছি যে গোটা সংসদ সম্মানিত হবে যদি আমরা সবাই মিলে গণভোটকে সম্মান করতে পারি।
আমরা এটাই তাদের কাছে প্রত্যাশা করি। আমরা আশা করি বিষয়টা তারা আন্তরিকভাবে বিবেচনায় নেবেন এবং সংকট নিরসনে সদিচ্ছার পরিচয় দেবেন’-বলেন জামায়াত আমির।
পরিবর্তন যেটা হবে সেটা সংস্কারে হোক আর সংবিধান সংশোধনে হোক-দুটি শব্দের পার্থক্য বশ্যই আছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলনে, সংস্কার হলো যে আইনের বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আপনি হাত দিতে পারবেন।
কিন্তু যদি সংশোধন হয় আপনার সেখানে অনেক লিমিটেশনস আছে। এ রকম সংশোধনী প্রস্তাব যখন আদালতে উঠেছে অতীতে আপনারা দেখেছেন যে অনেক প্রস্তাব কিন্তু আদালতে আবার নাকচ হয়ে গেছে। এখানে এই গুরুত্বের তফাতগুলো আছে। এগুলো বুঝেই যেন আমরা গণআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করি।