বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর স্নেহ ও আশীর্বাদ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মির্জা ফখরুল জানান, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ কর্মী। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁকে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসেন এবং দলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর ভাষায়, খালেদা জিয়ার আস্থা ও দিকনির্দেশনা তাঁকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ভুল করলেও দেশনেত্রী তাঁকে ক্ষমা করে সংশোধনের সুযোগ দিতেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে জীবনের শেষ সময়গুলোতে হাসপাতালে তাঁর পাশে থাকার স্মৃতি তিনি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন যে, এমন একজন নেত্রীর শেষ মুহূর্তে তাঁর সংস্পর্শে থাকতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ছিল তুলনাহীন। তাঁর জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি এবং সেই সময়ের নীরবতা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা তিনি ঐশ্বরিক বলে মনে করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, যা যেমন আনন্দের তেমনি চ্যালেঞ্জিংও। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য। খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও আদর্শকে ধারণ করে ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।