জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তারপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়েছে। এ সময়ে বারবার দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার এসেছে, আর সেই স্বৈরাচারের ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারী আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল। ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালেও আমরা আরেকটি বিজয় অর্জন করেছি।
১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি হয়েছিল, আর ২০২৪-এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।
এনসিপি সদস্যসচিব বলেন, স্বাধীনতা দিবসে আমরা যেমন বীর শহীদদের স্মরণ করি, তেমনি তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রক্ষার শপথ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। সেই শপথের অংশ হিসেবেই জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই গণভোটে অধিকাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন এবং সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন।
আখতার বলেন, আমরা সেই সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-বীর শহীদরা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এ দেশের সংবিধান বিদ্যমান কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রত্যাশা সব রাজনৈতিক দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জাতির কাছে তারা ওয়াদা করেছিল।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বর্তমানে বাস্তবায়নে তালবাহানা করা হচ্ছে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা মনে করি, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গেও প্রতারণা। দেশের মানুষ কোনোভাবেই এই প্রতারণা মেনে নেবে না।