পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘উন্নয়ন করা এখন আমার কাজ। আমি ন্যায়ের পক্ষে থাকবো। আর যারা অন্যায়ের পথে থাকবে, তারা আমার সঙ্গে না থাকলেও চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যেই দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করতে চাই।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন, আমি আজীবন মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই। তবে আমার সেবামূলক কাজে আমার আশেপাশের কেউ ব্যাঘাত ঘটনায় বা বাধা দেয়, তাহলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার এমএন একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
তিনি বাবার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থেকেছেন। সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার অবর্তমানে গত ১৭ বছর ধরে আমি জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। যারা নিজেদের ওবায়দুর রহমানের সৈনিক দাবি করেন, তারা সত্যিই তার আদর্শ ধারণ করছেন কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
স্মরণসভায় দলীয় নেতাদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মঞ্চে উঠে একে অপরের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করা সহজ না। সংগঠনকে শক্তিশালী করা কঠিন। বক্তব্যের চেয়ে সংগঠন গোছানো ও জনগণের পাশে থাকা বেশি জরুরি। কারণ নেতৃত্ব চিরস্থায়ী নয়। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে না পারলে অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের অনেক কাজ শুরু হয়েছে। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন দুর্নীতি বা অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সালথা ও নগরকান্দার সব সরকারি সব দপ্তরে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আমি একটি মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সালথা-নগরকান্দা গড়তে চাই। এই জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার উন্নয়নে দ্রুত কাজ শুরু হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তা, ব্রিজ, মসজিদ ও মন্দিরের প্রয়োজনীয়তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব কাজ শুরু করা হবে।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, ফরিদপুর জেলা
বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
স্মরণসভা পরিচালনা করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ ও যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ।