শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

প্রতিকূলতার ভেতর ফুটে ওঠা এক ‘জেসমিন’

শত প্রতিকূলতার ভেতর থেকেই খুঁজে নেন নতুন গাঁথুনি, নতুন আলো। তেমনই এক গল্পের নাম জেসমিন। বগুড়ার সারিয়াকান্দীর সেই নদীভাঙা গ্রাম কর্ণিবাড়ী থেকেই শুরু তাঁর যাত্রা। একটি মেয়ে, যার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, অথচ পায়ের নিচে ছিল কাদামাটির বাস্তবতা।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩১

রোকুনুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিনিধি

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই যেন এক নতুন পরীক্ষা, যেখানে সময় কখনো আঘাত করে, কখনো শিক্ষা দেয়। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা শত প্রতিকূলতার ভেতর থেকেই খুঁজে নেন নতুন গাঁথুনি, নতুন আলো। তেমনই এক গল্পের নাম জেসমিন। বগুড়ার সারিয়াকান্দীর সেই নদীভাঙা গ্রাম কর্ণিবাড়ী থেকেই শুরু তাঁর যাত্রা। একটি মেয়ে, যার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, অথচ পায়ের নিচে ছিল কাদামাটির বাস্তবতা। প্রকৃতির নির্মমতা তাঁকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে, কিন্তু জেসমিন সেই ভাঙনের মাঝেই তৈরি করেছেন নিজের অটুট ভবিষ্যৎ।

নদীর পাড় যখন ভেঙে যাচ্ছিল, তখন হয়তো তাঁর শৈশবও ভেঙে যাচ্ছিল একটু একটু করে। তবু সেই সময়েই মনে জন্ম নেয় এক প্রশ্ন—

“আমিও কি পারি আলোর পথে হাঁটতে?” আজ সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই দিয়েছেন নিজের জীবনের গল্পে। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী এখন কেবল এক নাম নয়, এক অনুপ্রেরণা, এক দৃঢ়তার প্রতীক।

জেসমিনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষকরা অবাক হয়ে দেখেন তাঁর শেখার ক্ষমতা। নতুন কিছু জানার কৌতূহল আর দ্রুত বিষয় আয়ত্ত করার দক্ষতায় তিনি খুব অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন সবার প্রিয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, কুইজ সব ক্ষেত্রেই জেসমিনের উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল।

মাধ্যমিকে ওঠার পর তাঁর প্রতিভা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গণিত ও বিজ্ঞানে অসাধারণ দক্ষতা, যুক্তিতে তীক্ষ্ণতা এবং নেতৃত্বের গুণে তিনি হয়ে ওঠেন সহপাঠীদের অনুপ্রেরণা। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় একের পর এক পুরস্কার অর্জন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে। অষ্টম শ্রেণিতে উপজেলায় প্রথম স্থান পেয়ে মেধাবৃত্তি এবং এসএসসিতে বোর্ডের মেধাতালিকায় স্থান অর্জন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রাজশাহীর এক নামী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর জেসমিনের জ্ঞানপিপাসা পায় নতুন গতি। সহপাঠীরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকত

“গুগল প্রো ম্যাক্স” নামে। বিতর্ক, বিজ্ঞান কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা সবখানেই তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। ২০২২ সালে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে ভর্তি হন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে। তাঁর শৈশবের স্বপ্ন তখন বাস্তবে রূপ নেয়। এক শিক্ষক বলেন, “জেসমিন শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, সে পুরো এলাকার গর্ব।”

এসব সাফল্য নিয়ে কথা হয় জেসমিনের সাথে। তিনি জানান, “নদীভাঙনে আমাদের ঘর হারালেও আমি বিশ্বাস হারাইনি। আল্লাহর রহমত, পরিবারের দোয়া আর নিজের পরিশ্রমই আমাকে এখানে এনেছে। আমি চাই, আমার মতো মেয়েরা বুঝুক স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হয়, যদি মন থেকে বিশ্বাস রাখা যায়।”

আজ জেসমিন শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থী নন, তিনি আশার প্রতীক। তাঁর গল্প শেখায়, ভাঙন যত গভীরই হোক, যদি মন অটুট থাকে, তবে সেই ভাঙন থেকেই গড়ে ওঠে আলোকিত পথচলা।

অন্যান্য

বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করার দাবি, ৮ বিভাগে অবরোধের ডাক দিল ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন, তারা যেন আগামীকালও ঠিক ১১টায় শাহবাগে হাজির হন এবং ইনসাফের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে নয়, বরং বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্তির দাবিতেও এই আন্দোলন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ তাকে আর মান্য করবে না। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

বক্তব্যে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জাবের বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথাকথিত সংবাদ বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না। ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান জাবের। তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে কি আপনারা ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে স্লোগান দিলে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।