শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

বাংলাদেশে ইসকনের অস্তিত্ব এবং বিশ্বের যেসব দেশে নিষিদ্ধ ‘ইসকন’

চীনে ইসকনের কার্যক্রমের অনুমতি নেই, কারণ দেশটি বিদেশি ধর্মীয় সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। মালয়েশিয়াতেও ইসকন নিষিদ্ধ, সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে

নিউজ ডেস্ক

০১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৫

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস বা ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় ৫৮ বছর আগে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশে সংগঠনটির কার্যক্রম রয়েছে, যদিও কিছু দেশে এটি নিষিদ্ধ।

ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। ১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ইসকন মূলত বৈষ্ণব ধর্মের একটি শাখা, যার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় চর্চার মূল কেন্দ্র ভগবান কৃষ্ণ।

ভক্তিযোগ বা কৃষ্ণভাবনামৃত সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে এসেছে ভারতবর্ষে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংস্কৃতি ভারত সীমা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসকন একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ইসকনের কর্মসূচি ও কার্যক্রম

ইসকনের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মন্দির স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রচার, ভক্তিমূলক ধর্মচর্চা, আধ্যাত্মিক উপদেশ, এবং দাতব্য কার্যক্রম। সংগঠনটি যোগব্যায়াম, ভক্তি শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক জীবনধারার প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিও পরিচালনা করে।
এছাড়া, তারা সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভাবীদের মাঝে বিনামূল্যে নিরামিষ খাদ্য বিতরণ করে থাকে, যা তাদের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।

যেসব দেশে নিষিদ্ধ ইসকন

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ইসকন নিষিদ্ধ ছিল। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সংগঠনটি রাশিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্রে পুনরায় সক্রিয় হয়।
চীনে ইসকনের কার্যক্রমের অনুমতি নেই, কারণ দেশটি বিদেশি ধর্মীয় সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
মালয়েশিয়াতেও ইসকন নিষিদ্ধ, সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিয়াশাসিত ইরান, সৌদি আরব ও আফগানিস্তানেও ইসকনের কার্যক্রমের অনুমতি নেই।

যেসব দেশে আংশিক নিষিদ্ধ

ইন্দোনেশিয়ায় ইসকন আংশিকভাবে নিষিদ্ধ। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে সংগঠনটি সেখানে কার্যক্রম চালাতে পারে।
তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানেও ইসকনের কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় পরিচালিত হয়।

যেসব দেশে সক্রিয় ইসকন

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই ও ইসরাইলসহ বিশ্বের বহু দেশে ইসকন অত্যন্ত সক্রিয়।
এছাড়া মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, থাইল্যান্ড, মরিশাস, ফিজি, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়াতেও সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত।

বাংলাদেশে ইসকনের উপস্থিতি

বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম শুরু হয় সত্তরের দশকের শুরুতে। বর্তমানে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি মন্দির পরিচালনা করছে সংগঠনটি। রাজধানী ঢাকার স্বামীবাগ মন্দির ইসকনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং সংগঠনটির প্রথম প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রগুলোর একটি।
বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ধর্মপ্রচার, রথযাত্রা উৎসব, মন্দির পরিচালনা এবং কৃষ্ণভক্তদের জন্য নিয়মিত পূজা ও আধ্যাত্মিক সাধনা। স্বামীবাগ মন্দিরে ভক্তরা প্রতিদিন কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন এবং ভগবানের সেবা করে থাকেন।

অন্যান্য

বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করার দাবি, ৮ বিভাগে অবরোধের ডাক দিল ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন, তারা যেন আগামীকালও ঠিক ১১টায় শাহবাগে হাজির হন এবং ইনসাফের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে নয়, বরং বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্তির দাবিতেও এই আন্দোলন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ তাকে আর মান্য করবে না। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

বক্তব্যে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জাবের বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথাকথিত সংবাদ বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না। ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান জাবের। তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে কি আপনারা ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে স্লোগান দিলে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।