শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

যত বড় নেতা, তত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত : মিজানুর রহমান আজহারী

জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, “আমাদের দেশে যত বড় নেতা, দেখা যায় তত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত, তত বেশি টাকা পাচারের রেকর্ডও তার নামে থাকে। যেখানে নেতাদের আমানতদার হওয়ার কথা, সেখানে এখন সেই গুণটাই বিলীন হয়ে গেছে।” বুধবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে মিনার কর্তৃক আয়োজিত সীরাত মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান […]

যত বড় নেতা, তত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত : মিজানুর রহমান আজহারী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৫

জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন,

“আমাদের দেশে যত বড় নেতা, দেখা যায় তত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত, তত বেশি টাকা পাচারের রেকর্ডও তার নামে থাকে। যেখানে নেতাদের আমানতদার হওয়ার কথা, সেখানে এখন সেই গুণটাই বিলীন হয়ে গেছে।”

বুধবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে মিনার কর্তৃক আয়োজিত সীরাত মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

আজহারী বলেন, “নেতা বলতে বোঝায় অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা। আমরা যদি কাউকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারি, তাহলে আমরাও নেতা হতে পারি। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অদক্ষ নেতৃত্ব। যদি যথাযথ নেতৃত্ব তৈরি করা যেত, তবে আজ এই সংকটগুলো থাকত না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে এখন এক চমৎকার সময় এসেছে, আর অন্তত ৫৪ বছরেও এমন সুযোগ আসবে না। তাই আমাদের উচিত রাসূল (সা.)-এর জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়া। আমাদের নেতাদের হতে হবে আমানতদার, তাদের জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে, যেমনভাবে রাসূল (সা.) নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।”

রাসূল (সা.)-এর জীবনের উদাহরণ টেনে আজহারী বলেন, “নবুয়তের আগে তিনি খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে ব্যবসায় পার্টনারশিপে ছিলেন। খাদিজা (রা.) বিনিয়োগ করতেন, নবীজি (সা.) শ্রম দিতেন। একবার ব্যবসায়িক কাজে সিরিয়ায় গেলে খাদিজা (রা.) তাঁর চরিত্র ও আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য মাইসারা নামে এক বিশ্বস্ত বান্ধবীকে পাঠান। মাইসারা ফিরে এসে নবীজি (সা.)-এর সততা ও আমানতদারিতার এমন প্রশংসা করেন যে, খাদিজা (রা.) পরবর্তীতে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। আমাদের নেতাদের এমনই হতে হবে—সৎ, আমানতদার এবং নৈতিকতায় দৃঢ়।”

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সীরাত মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম আবদুল কাদের। প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী, আরবি বিভাগের সভাপতি গিয়াস উদ্দীন তালুকদার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুমতাজ উদ্দীন কাদেরী, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, মিনারের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সহসভাপতি মোহাম্মদ পারভেজ।

অন্যান্য

বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করার দাবি, ৮ বিভাগে অবরোধের ডাক দিল ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন, তারা যেন আগামীকালও ঠিক ১১টায় শাহবাগে হাজির হন এবং ইনসাফের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে নয়, বরং বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্তির দাবিতেও এই আন্দোলন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ তাকে আর মান্য করবে না। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

বক্তব্যে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জাবের বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথাকথিত সংবাদ বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না। ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান জাবের। তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে কি আপনারা ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে স্লোগান দিলে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।